
আগামী মাসে জাপানে বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই গেমসের ক্রিকেট আয়োজন নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভেন্যু ও আবাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ার শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলো। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবাসনব্যবস্থাই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দলগুলোর সামনে আপাতত তিনটি বিকল্প রাখা হয়েছে—কোনো একটি শহরে থেকে বুলেট ট্রেনে করে ভেন্যুতে যাতায়াত করা, ভেন্যুর কাছাকাছি নোঙর করা কোনো জাহাজে থাকা অথবা শামিয়ানা-তাঁবুতে অবস্থান করা। তবে শীর্ষ দলগুলোর তারকা খেলোয়াড়দের জন্য এসব বিকল্পের কোনোটিই খুব বেশি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ জানিয়েছে মহাদেশের বড় দলগুলো—ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। এবারের এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে ১০টি এবং নারী ক্রিকেটে ৮টি দল অংশ নেবে।
এমন আবাসনব্যবস্থার কারণে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সদস্যদের একটি অংশ মনে করছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে এসিসি কিছুটা দেরিতে সক্রিয় হয়েছে। অন্যান্য খেলায় মহাদেশীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যেখানে অনেক আগেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আবাসন নিয়ে কাজ শুরু করেছে, সেখানে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এখনো বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এশিয়ান গেমসের ওয়েবসাইটে ভেন্যু সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি নিসিন শহরের একটি স্পোর্টস পার্কে অবস্থিত। এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে সেখানে ক্রিকেট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। জাপানে এটিই দ্বিতীয় এমন স্থাপনা, যেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ঘাসের পিচ রয়েছে।
এর আগে মে মাসে জাপান একটি আইসিসি পাথওয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল। এসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেন্যু ও সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একটি দল জাপানে পাঠানো হবে। তবে এত দেরিতে পরিদর্শন করায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দুই দিন আগে। গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং এটি চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ক্রিকেটে নারীদের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২২ সেপ্টেম্বর। আর পুরুষদের স্বর্ণপদকের লড়াই হবে ৩ অক্টোবর।