
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে খেলতে থাকা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনসমক্ষে কোনো ধরনের মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের।
ইমরান খানের দীর্ঘদিনের কারাবাস এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ক্রমেই বেশি আলোচনায় আসছে। একই সঙ্গে তার স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। লাঞ্চ বিরতির সময় স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খানের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে।
পিটিআই জানিয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারে পিসিবি অসন্তুষ্ট হয়েছিল। বোর্ডের দৃষ্টিতে সাক্ষাৎকারটি ছিল রাজনৈতিক প্রকৃতির। তবে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। কারণ আগামী ২ সেপ্টেম্বর প্রিন্স চার্লসের আয়োজিত একটি সংবর্ধনায় পাকিস্তান দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে বোর্ড।
পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, খেলোয়াড়রা ইমরান খানের ছেলেদের ওই সাক্ষাৎকার দেখেছেন কি না। ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার মাইক আথারটন সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন।
সরফরাজ জানান, খেলোয়াড়রা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। কারণ সাক্ষাৎকার প্রচারের সময় তারা লাঞ্চ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘না, আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানি না, আমরা তখন লাঞ্চ করছিলাম।’
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হলে লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর হুমকি পিসিবি দিয়েছিল—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজকে এ বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর পিসিবি দলের খেলোয়াড়দের ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার পরামর্শ দেয়। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন সাবেক ক্রিকেটার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং তার চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ক্রমেই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তিনি সব অভিযোগই অস্বীকার করে আসছেন।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হওয়ায় ইমরান খানের রাজনৈতিক বিষয়টি ধীরে ধীরে ক্রিকেট বিশ্বের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে।