
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই রাজশাহীতে প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতা জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার হুঁশিয়ারি দেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলছিল। এ সময় এনসিপির ওই নেতা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’
তবে এমন বক্তব্যের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার আইন অনুযায়ী জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এনসিপির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সহযোগী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ সকল ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রার্থীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে নাহিদুল ইসলাম সাজু আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসর বা সহযোগী কারও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। আর যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দু–একজনকে ‘ঠিক’ বলতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এখন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না করার সুযোগ নেই। আইনের বাইরে আসলে আমরা একটি কাজও করতে পারছি না।’