
গাইবান্ধায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জেলা এনসিপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে ‘বয়কট, বয়কট, এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেন জুলাই যোদ্ধারা। বিক্ষোভের মুখে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এসএম খাদেমুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশ করলে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘বয়কট, বয়কট এনসিপি বয়কট’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগের চামড়া তুলে দিবো আমরা’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘ধর ধর, লীগ ধর’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলামসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। তাদের চলে যাওয়ার পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপির নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনার বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা শরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের কেউ অসম্মান করলে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। এনসিপি গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের তাদের দলে পুর্নবাসন করে আমাদের অসম্মানিত করেছে। এ কারণে আজকের অনুষ্ঠানে তাদেরকে বয়কট করে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কমিটির পদ-পদবি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। এ কারণে আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিক্ষোভ করেছে।
পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল হক, রিয়াদ হাসানসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা ৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জুলাই যোদ্ধা আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা শুধু ভাতা কিংবা নামের জন্য এই আন্দোলন করিনি। রক্ত দেইনি। আমরা মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দেশের জনগণ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তা নেমে এসে হাসিনাকে তাড়িয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্যর সরকারের প্রতি দাবি জানাই।’
এর আগে ২৫২ জন জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননার স্মারক হিসেবে একটি করে ক্রেস্ট এবং উন্নত জাতের একটি করে আমগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় জেলা শহরের পৌর পার্কে অবস্থিত ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি একসময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করে সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দেন।