
সরকারের দীর্ঘসূত্রতা আর বিচারহীনতার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ মণিপুর; মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
আট দিক থেকে আসা মিছিল ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও
‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ বা কোকোমি-এর ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ইম্ফলের আটটি ভিন্ন প্রান্ত থেকে একযোগে মিছিল শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরের কেন্দ্রস্থল অতিক্রম করে মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংয়ের সরকারি বাসভবনে স্মারকলিপি প্রদান করা। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিসমূহ হলো:
সাম্প্রতিক জাতিগত সহিংসতার বিচার এবং বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত পুনর্বাসন।
মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা।
কোকোমি নেতৃত্বের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
যেভাবে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ইম্ফল
বিক্ষোভ মিছিলটি ইম্ফল শহরের ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের রাস্তা ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তারা তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের রেশ ঐতিহ্যবাহী ‘ইমা কেইথেল’ বাজার এবং আলু গলি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আলোচনার জন্য একাধিকবার কোকোমিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে অংশ নেয়নি।”
তিনি আরও জানান যে, সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আশা করলেও কিছু স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলেছে।
চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতার মাঝে নতুন করে শুরু হওয়া এই গণবিক্ষোভ মণিপুরের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।