
দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এ সাম্প্রতিক পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে ‘অভ্যুত্থান’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ব্যাংক খাতকে দলীয়করণ করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থানের পর এখন ইসলামী ব্যাংকেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।” তার দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একের পর এক ‘কুক্ষিগত’ করার চেষ্টা চলছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাত্র আট মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া এই এমডিকে সরিয়ে দেওয়াকে তিনি ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “যে ব্যাংক দেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ সংগ্রহ করে, সেটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে পুরো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা কমে যেতে পারে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাবধান করে দিচ্ছি, ব্যাংকগুলোকে দলীয়করণ করবেন না। একটার পর একটা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা হলে জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।” একই সঙ্গে তিনি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত মালিক জনগণই।
প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ইসলামী ব্যাংক জামায়াত-ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি আবার নতুনভাবে প্রভাবের লড়াইয়ের মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেমিনারে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংযত আচরণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে সংসদে শালীন ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। “জিহ্বা সংযত করুন”—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদে ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মামুনুল হক। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।