
ইসরায়েলে নতুন নির্বাচন এড়ানো এবং সরকার গঠন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দলগুলোর নেতাদের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথমবারের মতো গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন হারজগ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের মধ্যে কে প্রথম সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন, সেই সিদ্ধান্তও নেবেন প্রেসিডেন্ট।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নির্বাচনের পর কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে হারজগ বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে মেনে নিতে হবে যে তাদের সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না। নতুন নির্বাচন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতায় আসতে হবে।’
নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের সময়ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি একই আহ্বান জানান তিনি। হারজগ বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনে যখন কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই, তখন আমি সৃজনশীল চিন্তা, সাহস ও সদিচ্ছার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল রাষ্ট্রই বিজয়ী হয়।’
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় যেসব ফিলিস্তিনি নিজ ভূমিতে থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদের বংশধরদের একটি বড় অংশ এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব।
নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকারের কঠোর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এই জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়া দলগুলো এখন সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দলগুলো একজোট হতে পারলে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের দিন খামভর্তি অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এসব দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরির ক্ষেত্রে হারজগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট নেতার নাম উল্লেখ না করেই তিনি দেশটির আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।