
ওয়াশিংটনের সাথে চলমান কূটনৈতিক দরকষাকষিকে কোনোভাবেই ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রোববার (১০ মে) এক বলিষ্ঠ ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তেহরান আলোচনার টেবিলে বসেছে কেবল নিজেদের জাতীয় অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে নয়।
অটল অবস্থানে তেহরান
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইরান লক্ষ্য করে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠন সংক্রান্ত এক টাস্কফোর্স সভায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংলাপের অর্থ এই নয় যে ইরান তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবে। বরং জাতির স্বার্থ রক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল এজেন্ডা।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সভায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অধিকার রক্ষা করা, আত্মসমর্পণ নয়।"
সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। এর প্রতিবাদে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং সামরিক কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। যদিও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কয়েক দফা বৈঠক কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।
স্থায়ী সমাধানের পথে বাধা ও প্রত্যাশা
বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতিকে ভিত্তি করে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাঝপথে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই কঠোর বার্তা এটিই প্রমাণ করে যে, তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। ইরানের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও ইরনা।