
দেশজুড়ে পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান ‘মারকা-ই-হক’-এ নিরাপত্তা বাহিনীর অভাবনীয় সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (সিওএস) জেনারেল আসিম মুনির। এই বিজয়কে কেবল সামরিক সফলতা নয়, বরং একটি ‘আদর্শিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
রোববার (১০ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অটল সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আদর্শিক লড়াই ও জাতীয় সংহতি
জেনারেল আসিম মুনির তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী এই লড়াইটি ছিল মূলত উগ্রবাদী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রাম। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেনাপ্রধানের মতে, এই বিজয় সেইসব অপশক্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত বার্তা, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর অসামান্য ত্যাগ
অভিযানে অংশগ্রহণকারী জওয়ান ও কর্মকর্তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে সেনাপ্রধান জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর নিরলস পরিশ্রম এবং সর্বোচ্চ ত্যাগের ফলেই উগ্রবাদীদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও হুঁশিয়ারি
বিবৃতিতে জেনারেল মুনির স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি জাতিকে আশ্বস্ত করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো ধরনের অশুভ তৎপরতা নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই প্রতিফলন। ‘মারকা-ই-হক’ অভিযানটি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থির এলাকাগুলোতে উগ্রবাদীদের দমনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।