
ইরান যুদ্ধ চায়নি তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে ইরান আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান সব সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বার্তায় আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সংঘাত এড়াতে তেহরান কূটনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের বন্ধুপ্রতীম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, আমরা আপনাদের সহায়তা এবং কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইরানের সামনে আত্মরক্ষার পথ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না।
মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের পাল্টা হামলা কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং তেহরান সব সময় এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এসেছে।
বার্তায় তিনি আঞ্চলিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপরই বর্তায়।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আঞ্চলিক দেশগুলোকে উদ্দেশ করে প্রেসিডেন্টের এই বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের দাবি, তাদের এসব সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ। এর মাধ্যমে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।