
ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসা যুক্তরাষ্ট্র এবার ন্যাটোতে নিজেদের সামরিক সম্পৃক্ততা কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা করছে। ওয়াশিংটনের নতুন এ উদ্যোগের ফলে জোটভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা দায়িত্ব আরও বেশি করে বর্তাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ন্যাটোর জন্য নির্ধারিত মার্কিন সামরিক সক্ষমতার পরিধি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং কিছু নৌসামরিক সম্পদের সংখ্যা হ্রাস করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে ন্যাটোর সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বরাদ্দ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও কাটছাঁট আনার চিন্তা করা হচ্ছে।
এর আগে মে মাসে ইউরোপীয় মিত্রদের জানানো হয়, সংকটময় পরিস্থিতিতে ন্যাটোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক শক্তি প্রস্তুত রাখে, তার পরিসর ছোট করা হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ। বর্তমান প্রশাসন ইউরোপের তুলনায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশি মনোযোগ দিতে আগ্রহী। ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকেই আরও বড় দায়িত্ব নিতে হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ পরিকল্পনা ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সহায়তা কমে গেলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির মুখে জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ন্যাটোর সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত পরিবর্তনের পরও জোটের প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় থাকবে। সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা জোরদারের প্রশ্ন এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।