
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দরজায় লাগানো একটি ব্যতিক্রমী নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ প্রবেশ করুন’। সরকারি কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন বার্তা নজর কেড়েছে অনেকের।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাগানো সাইনবোর্ডটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানো এবং সেবাপ্রার্থীদের নির্বিঘ্নে ইউএনওর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি কার্যালয়কে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ ও উন্মুক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে কেউ কেউ মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। তাঁর মতে, বরুড়া ইউএনও কার্যালয়ের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
আরেক বাসিন্দা শওকত আলী উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, এটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা, নিয়মকানুন ও পারস্পরিক সৌজন্য বজায় রেখেও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সহজ করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ইউএনওর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানান তিনি। পাশাপাশি জনসেবায় আরও অবদান রাখার জন্য তাঁর প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর লক্ষ্য থেকেই তিনি এমন ব্যবস্থা চালু করেছেন। সেবাপ্রার্থীরা যেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবতে পারেন, সেটিই তাঁর উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরের মূল দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া। তাই নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা জানাতে এসে মানুষকে যেন কোনো ধরনের সংকোচ বা দ্বিধায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দরজায় এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনওর ভাষ্য, তাঁর কক্ষে প্রবেশের জন্য কারও কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একইভাবে জুতা খুলে প্রবেশ করারও বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণ মানুষ যেন কোনো আনুষ্ঠানিকতার বাধা ছাড়াই প্রশাসনের কাছে এসে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, এটাই তাঁর প্রত্যাশা।