
আল-আকসা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ে আসা বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশ করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। নিরাপত্তার অজুহাতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের কারণে অনেকে মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। একই সময়ে ইহুদিদের ধর্মীয় দিবস ‘তিশা ব'আভ’ উপলক্ষে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় ২ হাজার ৩০০-এর বেশি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও সেখানে যান।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আল-আকসার প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বিপুলসংখ্যক মুসল্লিকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন মুসল্লির ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে বেন-গভিরের এ পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ইঙ্গিত, যা আগে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
আল-আকসা প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারীর প্রবেশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জেরুজালেমের ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে চলমান লঙ্ঘন বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
একই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাসও। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের পরিণতি দখলদার ইসরাইল ও তাদের বসতি স্থাপনকারীদেরই ভোগ করতে হবে।’
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। অন্যদিকে একই এলাকাকে ইহুদিরা তাদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থার অধীনে জর্ডানের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ আল-আকসা প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধান করে। এই ব্যবস্থায় ইহুদিদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা