
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে কুয়েতের তিনটি মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের একটি ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও সামরিক উড়োজাহাজের চিত্র দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু স্থাপনা থেকে মার্কিন সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ‘ই-থ্রি সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবিও প্রকাশ করেছে এবিসি নিউজ। এর আগে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন চিত্র প্রকাশিত হলেও এবারের প্রতিবেদনে একাধিক ঘাঁটির ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কয়েকটি ঘাঁটিতে এমন ক্ষতি হয়েছে যা দ্রুত মেরামত করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও হামলার তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে শতাধিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাবে ব্যয় ৩৩ বিলিয়ন ডলার হলেও কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানি হামলায় ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮২৪ জন আহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি ঘটে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে কুয়েতের পোর্ট শুআইবা এলাকায়, যেখানে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানি হামলার খবর এর আগে একাধিকবার এসেছে।
নতুন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির নিরাপত্তা, ঘাঁটিগুলোর পুনর্গঠন ব্যয় এবং ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।