
আমন মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার আমন চাষি। সোমবার সকালে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।
হঠাৎ কৃষকদের এই কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। এতে বুড়িমারী স্থলবন্দরমুখী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।
অবরোধ চলাকালে কৃষকরা ‘সার দে, কৃষি বাঁচাও’, ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ, মরলে কৃষক মরবে দেশ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত দামে সার কেনায় আমন চাষের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অর্থের সংকটে অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সার দিতে পারছেন না। দ্রুত সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে কৃষকদের সংকট আরও বাড়বে।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, সার সংগ্রহের জন্য তারা স্থানীয় মাধু ভট্টাচার্য্য ডিলার পয়েন্টে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাননি। পরে চাহিদা অনুযায়ী সার না দিয়েই হঠাৎ ডিলার পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
কৃষকদের আশঙ্কা, আমন মৌসুমে সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তারা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন।
অবরোধের খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
পরে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম আন্দোলনরত কৃষকদের আগামী দুই দিনের মধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এই আশ্বাস পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।