
প্রায় ৪০ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার খুলে দেওয়া হলো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক আমতলার গেট।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে রোগীদের চলাচলের জন্য গেটটি খুলে দেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যে ঐতিহাসিক মিছিল বের হয়েছিল, তার সূচনা হয়েছিল এই আমতলা এলাকা থেকেই। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহনকারী প্রবেশপথটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘আমতলার গেট’ নামে পরিচিত। চার দশক বন্ধ থাকার পর আজ থেকে এই গেট ব্যবহার করে রোগীরা সহজে হাসপাতালে যাতায়াত করতে পারবেন।
এতদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথই চালু ছিল। একটিমাত্র গেট ব্যবহার করতে হওয়ায় প্রায়ই প্রবেশ ও বহির্গমন পথে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। নতুন করে আমতলার গেট খুলে দেওয়ায় রোগী ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, গেটটির দুই পাশে কয়েকজন চিকিৎসক বসবাস করতেন। ব্যক্তিগত সুবিধার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তাদের ধারণা। হাসপাতাল পরিচালকের এই উদ্যোগকে তারা জনবান্ধব সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন এবং গেটটি স্থায়ীভাবে খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোগীদের যাতায়াত সহজ করা এবং হাসপাতালের ভেতরে যানবাহনের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই গেটটি খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি গেটটি যেন স্থায়ীভাবে খোলা রাখা যায়। হাসপাতালে ঢোকার ও বের হওয়ার একটি মাত্র রাস্তা থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। আজ থেকে এই পথ উন্মুক্ত হলো এবং এটি স্থায়ীভাবেই খোলা থাকবে।’
গেটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “গেটটির দুই পাশে কয়েকজন চিকিৎসক থাকেন। তাঁদের কেউ হয়তো এটি দীর্ঘদিন বন্ধ রেখেছিলেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এটি বন্ধ দেখে আসছি। তবে ঠিক কত বছর এটি বন্ধ ছিল, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। শুনেছি এর আগেও কয়েকবার এটি খোলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।”
তিনি জানান, হাসপাতালের প্রবেশপথের সামনে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হবে। আমতলার গেট চালু হওয়ায় এখন থেকে রোগীবাহী যানবাহন আরও দ্রুত হাসপাতালে ঢুকতে ও বের হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।