
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে পর্যটনশিল্পের জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি 'মহাপরিকল্পনা' প্রণয়ন করছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রণীত এই মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন ১৩২ দশমিক ৪৪ একর জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অন্যান্য পর্যটন সুবিধা নির্মাণের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্পের ডিমান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও মার্কেট স্টাডি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ সম্পন্ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের তথ্যসেবা সহজ করতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলস্টেশনে এলইডি তথ্যবোর্ড স্থাপন, পর্যটন এলাকায় বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন এবং নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করছে। পিপিপির আওতায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের টেকসই বিকাশে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, ভার্চ্যুয়াল ট্যুর এবং ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
পর্যটন খাতে সেবার মান উন্নয়নে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল ও পরিবহনকর্মীদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ, ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসসহ বিভিন্ন পেশাদার কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ট্যুর গাইড পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করতে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের জন্য দক্ষ গাইড তৈরির বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১০১ জনকে পেশাদার প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে।