
রাজধানীর আসাদ গেটে একটি ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়িতে তেল নিতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করার অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (৯ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাংবাদিকের নাম সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ, তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরে কর্মরত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকের অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে তেল নেওয়ার পর ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীর সঙ্গে ওই সাংবাদিকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তিনি কর্মচারীর দিকে এগিয়ে গিয়ে কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করেন। এতে আশপাশে থাকা লোকজন জড়ো হয়ে যায় এবং পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
এ বিষয়ে সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ বলেন, তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে পাম্পে গিয়েছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল দিতে চাইলে তিনি গাড়ির ট্যাংক ভরে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কর্মচারী অস্বীকার করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেন, কিন্তু তখন তেল বিক্রয়কর্মী তাঁকে গালাগালি করেন। পরে মারতে এগিয়ে আসলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র প্রদর্শন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনার কারণে বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে সাংবাদিক ট্যাংক ভরে তেল নিতে চাইলে পাম্পের কর্মচারী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান, যার পর তিনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন।
ঘটনার সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকের অস্ত্রের লাইসেন্স পরীক্ষা করে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করেন।