
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের অনাকাঙ্ক্ষিত বাদ পড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের রিপোর্টে প্রকাশ, এই সিদ্ধান্তের পেছনে এক নাটকীয় ও উত্তপ্ত প্রক্রিয়ার তথ্য রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতীয় ভেন্যুতে খেলার অনিচ্ছা জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি জানালে বিষয়টি নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলেছিল। নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ তুলে ধরে বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকলেও আইসিসি তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে আইসিসি বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।
সময়সীমার মধ্যে বিসিবি সম্মতি না দেওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে ছিল।
ক্রিকবাজ জানায়, পুরো প্রক্রিয়ায় আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জগ গুপ্ত নিয়মিতভাবে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে একটি ভিডিও কনফারেন্সে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও যুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আইসিসির অবস্থান মেনে নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলবার কথা ছিল। গ্রুপ ‘সি’-তে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন এই গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের পর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। ওই মূল্যায়নে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের দল, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি।
আইসিসি আরও জানায়, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছে সূচি পরিবর্তন করলে প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা ও কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নির্ধারিত সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পর্দার আড়ালের উত্তপ্ত বৈঠকের তথ্য প্রকাশ হওয়ায় আইসিসি ও বিসিবির মধ্যকার দ্বন্দ্বও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।