
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে গান স্ট্রিম করিয়ে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংগীত স্ট্রিমিং জালিয়াতির ঘটনায় দেশটিতে এটিকে প্রথম ফৌজদারি দণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনার ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল স্মিথ নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালত তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৮০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
এআই দিয়ে গান তৈরি, বট দিয়ে কোটি কোটি স্ট্রিম
মামলার নথি অনুযায়ী, স্মিথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিপুলসংখ্যক গান তৈরি করেন। পরে সেগুলো স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়।
এরপর স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে তার তৈরি গানগুলো কোটি কোটি বার স্ট্রিম করানো হয়। বাস্তব শ্রোতাদের স্বাভাবিকভাবে গান শোনার বদলে কৃত্রিমভাবে স্ট্রিমের সংখ্যা বাড়িয়ে এই পদ্ধতিতে রয়্যালটি আদায় করতেন স্মিথ।
সাধারণভাবে কোনো শিল্পীর একটি গান একবার স্ট্রিম হলে তিনি প্রায় ০.০০৩ থেকে ০.০০৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এই ব্যবস্থাকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ ওঠে স্মিথের বিরুদ্ধে।
‘পুরো রয়্যালটি ব্যবস্থাকেই প্রতারণার মাধ্যমে শোষণ’
আদালতে স্মিথের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বাস্তবিক অর্থে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, স্মিথ ব্যক্তিগতভাবে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিবর্তে পুরো সংগীত রয়্যালটি ব্যবস্থাকেই প্রতারণার মাধ্যমে শোষণ করেছেন।
প্রসিকিউটর জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, প্রকৃত শ্রোতার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট এবং সৃজনশীল সংগীতের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে তৈরি গান ব্যবহার করে স্মিথ প্রকৃত শিল্পী ও তাদের ভক্তদের প্রাপ্য রয়্যালটির বিপুল অর্থ নিজের করে নিয়েছেন।
২০২৪ সালে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বট ব্যবহার করে গান স্ট্রিম করানোর অভিযোগে স্মিথের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় মামলা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন তিনি।
এআই-নির্ভর জালিয়াতিতে বাড়ছে সংগীতশিল্পের ঝুঁকি
সংগীত স্ট্রিমিংয়ে কৃত্রিমভাবে শ্রোতা ও আয় বাড়ানোর জালিয়াতি নতুন নয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে এ ধরনের প্রতারণা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ফরাসি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিজারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ হাজার এআই দিয়ে তৈরি গান তাদের প্ল্যাটফর্মে আপলোড হচ্ছে।
মিউজিক শিল্পের সংগঠন রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার মতে, স্ট্রিমিং জালিয়াতির কারণে প্রকৃত শিল্পীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শ্রোতাদেরও বিভ্রান্ত করে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, স্ট্রিমিং জালিয়াতির কারণে বিশ্বব্যাপী সংগীতশিল্পে প্রতি বছর ক্ষতির পরিমাণ ২২০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।