
চীনে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত দেশটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ কোটি ছাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার চায়না ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের (সিএনএনআইসি) পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘২০২৬ চায়না ইন্টারনেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসোর্সেস কনফারেন্সে’ প্রকাশিত ‘জেনারেটিভ এআই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সর্বশেষ জরিপের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে চীনে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, বিভিন্ন শিল্পে এর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ক্ষেত্র ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তারা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেন। এ ছাড়া এআই-সমন্বিত সহকারী এবং এআইভিত্তিক দাপ্তরিক দক্ষতা বৃদ্ধির অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার এক বছরে ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চীনের ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনলাইনে স্মার্ট হার্ডওয়্যার ডিভাইস কিনেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চীনের নিজস্ব উদ্ভাবন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্পশৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়েও ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশটির বুদ্ধিমান কম্পিউটিং সক্ষমতা ২ হাজার ১৮৫ এক্সাফ্লপসে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চীনের তৈরি প্রথম এক লাখ কার্ডের এআই সুপারক্লাস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।
এই সুপারক্লাস্টারে চিপ, কম্পিউটিং, তথ্য সংরক্ষণ, নেটওয়ার্ক ও তাপ নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে দেশীয়ভাবে উন্নত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
শিল্প, কৃষি, পরিষেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রভাবও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চীন সমন্বিত সার্কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ডিজিটাল শিল্পকে কেন্দ্র করে ১৬টি জাতীয় পর্যায়ের উন্নত উৎপাদন ক্লাস্টার গড়ে তুলেছে। বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের হারও ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
এ ছাড়া, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনে ৪০০টির বেশি হিউম্যানয়েড রোবট মডেল তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আশা করা হয়েছে, পুরো বছরে দেশটিতে হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন এক লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে।