
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে যখন উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখনই সামনে এসেছে আয়োজক দেশকে ঘিরে বিতর্ক। বেনিনের বিপক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোরে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি হতে যাচ্ছে মেসির জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী লড়াই।
তবে এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নিতে গিয়ে বেনিন দলকে বেশ কিছু ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানা গেছে। আফ্রিকার দলটি প্রায় ২৫ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায়। দীর্ঘ ভ্রমণের ধকলের মধ্যে দলের ভিডিও বিশ্লেষক কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন বলেও বেনিনের সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠ—বিভিন্ন অভিযোগ
আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পরও বেনিনের সমস্যার অবসান হয়নি। দলটির হোটেলের একটি তলায় গরম পানির ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত জিমেও পর্যাপ্ত পেশাদার সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির কারণে অনুশীলন করতে হয়েছে কৃত্রিম টার্ফের মাঠে। মেসির বিদায়ী ম্যাচকে কেন্দ্র করে এত বড় আয়োজনের মধ্যে অতিথি দলের এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে আর্জেন্টিনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
এর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার অভিযোগ সামনে এসেছিল। ওই ম্যাচের মাত্র তিন ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়েরা। ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে তাদের মাঠে নামতে হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে ৭-০ গোলের বড় জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের আগে অতিথি দলের এমন পরিস্থিতির জন্য আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমেই ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
পরে পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক প্রস্তুতিতে বেনিন
বেনিন দলের সমস্যাগুলো অবশ্য পরে অনেকটাই সমাধান করা হয়েছে। হোটেলে গরম পানির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং অনুশীলনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এরপর অনুশীলন শুরু করেছে বেনিন। দলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শুরুতে কিছু লজিস্টিক জটিলতা থাকলেও সেগুলো কাটিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ফলে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে মাঠের বাইরের বিতর্ক আপাতত কিছুটা প্রশমিত হলেও, অতিথি দলগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আর্জেন্টিনার ওপর ওঠা প্রশ্ন পুরোপুরি থামেনি।