
বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের কাঁচামালের সন্ধান পায়নি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে নথিতে থাকা মজুত ও বাস্তব মজুতে বড় ধরনের পার্থক্য শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নথিতে ১৯ লাখ কেজি, বাস্তবে মিলেছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার কেজি
বন্ডেড সুবিধার আওতায় জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেড এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্ক ছাড়াই আমদানি করে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন ইউপি বা কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে থাকা প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। তখনই বড় ধরনের অসংগতি সামনে আসে।
নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।
অর্থাৎ কাগজে মজুত দেখানো হলেও বাস্তবে পাওয়া যায়নি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল। পরিমাণের দিক থেকে এ ঘাটতি প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি।
না পাওয়া কাঁচামালের মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা
সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করলে, নিখোঁজ বা না পাওয়া কাঁচামালগুলোর মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা।
এসব পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আনা এত বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের ঘাটতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
উৎপাদনে ব্যবহার নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, চলছে যাচাই
কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার সুযোগ নিয়ে এসব কাঁচামাল অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।