
ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের উপগ্রহভিত্তিক সর্বশেষ মূল্যায়নের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) পিসিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে এ ধ্বংসযজ্ঞের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই লাখের বেশি স্থাপনা
জাতিসংঘ স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউনোস্যাট) পরিচালিত সর্বশেষ উপগ্রহভিত্তিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় মোট ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংখ্যা গাজার মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।
পিসিবিএসের তথ্য বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আবাসিক খাতেও ব্যাপক। শুধু আবাসিক ইউনিটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি।
পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পিসিবিএস।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেনিন শরণার্থী শিবিরে ৬৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ওই শিবিরের মোট ভবনের প্রায় ৫৩ শতাংশ।
একই সময়ে নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৩৪টি ভবন বা প্রায় ৫৫ শতাংশ। আর তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে ৪০৭টি অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট অবকাঠামোর প্রায় ৩৭ শতাংশ।
পিসিবিএসের প্রকাশিত এসব পরিসংখ্যান গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে।