
তাওহিদ হৃদয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১১১ রানের লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই রান পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে যথেষ্ট হলো না। হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। ফলে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলেও ভেজা মাঠের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সোয়া এক ঘণ্টা পর ম্যাচ শুরু হয়। সময় কমিয়ে আনতে দুই ইনিংসই ১৩ ওভারে নির্ধারণ করা হয়।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪৫ রানেই চার উইকেট হারায় তারা। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। দুজনের ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়। মুকিমের বলে আউট হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও চারটি ছক্কা। মোসাদ্দেক করেন ১১ রান। শেষ দিকে শেখ মেহেদি হাসানের ৮ রানে ভর করে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। অতিরিক্ত থেকে আসে ১৯ রান।
১১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মেহেদি হাসানের বলে সাহিবজাদা ফারহান ফিরে যাওয়ার পর নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানও উইকেট তুলে নেন। রিশাদ হোসেনের বলে উসমান খান ফিরলে ৫৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের জুটিতে দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। সামাদ ১৫ বলে ৩০ এবং নাওয়াজ ২২ বলে ২৭ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২ ওভারে তিনি দেন ৪১ রান। নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে খরচ করেন ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
এই জয়ে ফাইনালে উঠে স্বর্ণপদকের লড়াই নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ।