
নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে ফ্রান্স। উয়েফা নেশন্স লিগের গ্রুপ এ১-এর ম্যাচে শুক্রবার তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে ফরাসিদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুর চোট।
কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই এমবাপ্পেকে আক্রমণের বাঁ প্রান্তে খেলান জিদান। আর সেখান থেকেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে সাবেক কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে মাঝখানে খেললেও জিদানের কৌশলে এবার বাঁ দিক থেকে আক্রমণে দেখা যায় তাকে।
গোলটি আসে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। মাইকেল অলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে নিচু শটে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরজান চাকিরকে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। এটি ফ্রান্সের হয়ে তার ৬৭তম আন্তর্জাতিক গোল।
তবে গোলের পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাঁ হাঁটুর কাছে ব্যথা অনুভব করে মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুক্ষণ খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৫৯ মিনিটে তাকে তুলে নেন জিদান। তার বদলে মাঠে নামেন দেজিরে দোয়ে।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের চোট নিয়ে জিদানও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফরাসি কোচের ভাষ্য, ঝুঁকি না নিয়ে এমবাপ্পেকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তই নেওয়া হতে পারে। তবে চোটের প্রকৃত মাত্রা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
অভিষেক ম্যাচে জয় পেলেও জিদানের জন্য রাতটি পুরোপুরি স্বস্তির হয়নি। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে এবারই প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের কোচিংয়ে ফিরেছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি কিংবদন্তি।
তুরস্কের বিপক্ষে জয় দিয়ে নেশন্স লিগের নতুন অভিযান শুরু করেছে ফ্রান্স। আগামী সোমবার ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর শুক্রবার ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। এমবাপ্পে ওই ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
জিদানের জন্য ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বিশেষ তাৎপর্যের। খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে তার শেষ ম্যাচটিও ছিল ইতালির বিপক্ষে—২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।