
এশিয়ান গেমস হকিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য প্রথম কোয়ার্টারে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলে হেরেছে তারা।
দক্ষিণ কোরিয়া হকির র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের জন্য কাজটি কঠিন ছিল। প্রথম কোয়ার্টারে অবশ্য কোরিয়াকে গোল করতে দেয়নি বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ডিফেন্সের ভুলে দুটি গোল হজম করে দলটি।
বাংলাদেশও দুটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এর মধ্যে দ্বীন ইসলাম ইমন গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। মিমোও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। জাতীয় দলে অনেকদিন পর ফেরা রাসেল মাহমুদ জিমিও নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেননি।
তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুটি গোল করে দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ কোয়ার্টারে আরেকটি গোল হলে ৫-০ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
কোচিং স্টাফেও ছিল একটি সমস্যা। অলিভারের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না হওয়ায় তিনি টেন্টে থাকতে পারেননি। সহকারী কোচ হিসেবে ডাগআউটে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাঁকে মাঠের বাইরে গ্যালারিতে বসে ম্যাচ দেখতে হয়েছে।
গিফু হকি স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে বাংলাদেশের হকির পরিচিত মুখ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক তাহির জামানকে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কাছ থেকে বাংলাদেশের হকি পর্যবেক্ষণ করা তাহির জামান ম্যাচ শেষে বলেন, ‘বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করলেও সেই ধারা রাখতে পারেনি, যেটা গুরুত্বপূর্ণ। বড় দলের বিপক্ষে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ম্যাচে লড়াই করা কঠিন। সবার ফিটনেস এক পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ গেরহার্ড পিটার আবারও জিমিদের দায়িত্বে রয়েছেন। ঢাকায় অনুশীলনের পর চীনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার ঘাটতি দেখছেন কোচ পিটার। তিনি বলেন, ‘জার্মানি যেতে পারলে আমরা অনেক ম্যাচ খেলতে পারতাম। চীনে পাঁচটির বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি। আমরা যে দুই সুযোগ মিস করেছি, সেটা না হলে খেলার চিত্র ভিন্ন হতো।’
জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ান গেমসের মূল শহর নাগোয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গিফু হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হয়। গেমস কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের ট্রেন ও বাস বদলে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর ভেন্যুতে পৌঁছাতে হয়েছে।