
ধানমণ্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী মাঠ আর আবাহনী ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় থাকছে না। চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠটির লিজ বাতিল করে এর দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেডের মাঠের দায়িত্বও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার এ দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাঠগুলো আর কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সর্বসাধারণের খেলাধুলার জন্য এগুলো উন্মুক্ত রাখা হবে।
দুই বছরের ফি বকেয়া থাকায় বাতিল লিজ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান জানান, আবাহনী ক্লাবের মাঠের ফি বাবদ দুই বছরের অর্থ বকেয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের পর থেকে ক্লাবটি আর মাঠের ফি পরিশোধ করেনি। ২০২৪ সালের ফি জমা দেওয়ার একটি রসিদ পাওয়া গেলেও সেটি চুক্তি বাতিলের পর দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া মাঠটির চুক্তিতে টানা দুই বছর ফি বকেয়া থাকলে লিজ বাতিলের শর্ত ছিল। সেই শর্ত অনুযায়ী মাঠটির লিজ বাতিল করা হয়েছে।
‘খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে’
লিজ বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘গত ১১ মে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
চুক্তি বাতিলের পর মাঠের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘মাঠে ইতিমধ্যে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা না ভেঙে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য।’
আবাহনী ও ধানমণ্ডি ক্লাবকে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেলার মাঠ কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করা হবে।’
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো এবং জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।