
নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় এসেছিল তিন বছর আগে। তারও আগে ২০১৮ সালে টানা দুই ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই জয়ের অনুপ্রেরণাই এবার কাজে লাগাতে চায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। দুবাইয়ে আজ রাত সাড়ে ৮টায় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
নারী এশিয়া কাপে দুই প্রতিবেশীর সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যান অবশ্য ভারতের পক্ষেই। সর্বশেষ আট ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছে তারা। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য এসেছিল তিন বছর আগে। সেবার ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে ৯ উইকেটে ১০২ রানে আটকে দিয়ে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
এর আগে ২০১৮ সালে ভারতকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এসেছিল আরও বড় অর্জন। ভারতকে ৯ উইকেটে ১১২ রানে আটকে দিয়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
তবে বর্তমান বাংলাদেশ দল ২০১৮ কিংবা ২০২৩ সালের দলের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সেও তার ছাপ রয়েছে। গত ১২ মাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে লড়াই জমিয়েছে বাংলাদেশ।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের মাটিতে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা পাকিস্তানকেও হারিয়েছে তারা। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে ১০০ রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশের বোলিং। ভারতের বিপক্ষেও এবার সেই বোলিং শক্তির ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে বাংলাদেশকে।
ভারতের ব্যাটিংও সাম্প্রতিক সময়ে সবসময় ধারাবাহিক নয়। চলতি এশিয়া কাপেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৪৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় ধরনের ব্যাটিং ধসের মুখে পড়েছিল তারা। ফলে ভারতের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ।
গত ১০ দিনেই নিজেদের বোলিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট করার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দুর্দান্ত বোলিং করেছে তারা। ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লঙ্কান ব্যাটারদের বেশ চাপে রেখেছিল বাংলাদেশি বোলাররা।
সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটারদেরও স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ৯ উইকেটে মাত্র ৬৯ রানে আটকে দিয়েছিল তারা।
ভারতের বিপক্ষে তাই বোলিং পরিকল্পনায় খুব বেশি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করাই থাকবে মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নিজেদের ব্যাটিং নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেমিফাইনালের আগে তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগই পরিকল্পনা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে ভারতের বিপক্ষে আবারও জয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের।