
জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নাগরিক দুর্ভোগে হতাশ হয়ে জন্মশহর করাচি ছেড়ে ইসলামাবাদে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি করাচির অবস্থা, ২০১০ সালের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি এবং পাকিস্তান দলের নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেছেন।
সাবেক ক্রিকেটার ফাওয়াদ আলমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফ্রিদি বলেন, করাচির বর্তমান পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। পরিবারের জন্য উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতেই ইসলামাবাদে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
করাচির মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সমালোচনা করে আফ্রিদি বলেন, ‘এত বছর নির্মাণকাজ ও অর্থ বিনিয়োগের পরও পরিস্থিতি দেখে আমি হতাশ। মানুষ বলত করাচি নাকি প্যারিস হবে—যা শুনে আমার হাসি পায়। কিন্তু বর্তমানে কোরঙ্গি বা ইউনিভার্সিটি রোডের মতো প্রধান এলাকাগুলোর যে অবস্থা, তা সত্যিই দুঃখজনক।’
তবে তিনি বলেন, শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ‘শাহরাহ-ই-ভুট্টো এক্সপ্রেসওয়ে’-র মতো কিছু প্রকল্প ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এরপরও উন্নত নাগরিক সুবিধা এবং ইসলামাবাদ ও লাহোরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের কারণে করাচি ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য।
সাক্ষাৎকারে ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টের বহুল আলোচিত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়েও কথা বলেন আফ্রিদি। সে সময়ের অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাকে টেস্ট অধিনায়ক বানিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছিল। আমি তরুণ খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিসঙ্গ থেকে দূরে রাখতে টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না আমাদের তরুণ ছেলেরা এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’ তার ভাষ্য, টিম ম্যানেজমেন্টের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি তখন হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।
বাবর আজমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিতর্কের জবাবও দেন আফ্রিদি। তিনি বলেন, ‘আমি বাবর আজমের শত্রু নই। সে আমাদের দেশের অন্যতম সেরা ও ধারাবাহিক ব্যাটার। কিন্তু বিরাট কোহলির মতো বড় ক্রিকেটার হতে হলে সময়ের সঙ্গে পারফরম্যান্সে উন্নতি এনে দলকে ম্যাচ জেতাতে হবে। সত্য সমালোচনাকে অনেকে বিদ্বেষ বলে ধরে নেয়।’
এছাড়া জামাতা ও জাতীয় দলের পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদিকে অধিনায়কত্ব না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও জানান সাবেক এই অধিনায়ক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অধিনায়কত্বের শেষটা পাকিস্তানে কখনো ভালো হয় না। তবে দেশের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন। শাহীনও সেই সুযোগটি নিতে চেয়েছিল, তবে সঠিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব না দিয়ে কাউকে অধিনায়ক বানানো অনুচিত।’
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে আফ্রিদি পরামর্শ দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে কঠোর অনুশীলন ও পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে। শর্টকাটের পথ এড়িয়ে শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন পূরণের আহ্বান জানান তিনি।