
বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সেই ম্যাচকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে প্রায় সাড়ে ১৮ বছর আগের একটি ছবি, যেখানে তরুণ লিওনেল মেসির কোলে দেখা যায় পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজকের স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল।
রোববার নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। আর সেই উপলক্ষে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের একটি বাথটাবে বসে থাকা শিশু ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন ২০ বছর বয়সী মেসি।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ একটি ফটোশুটের। এটি ছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ। প্রতি বছর বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে সেই ক্যালেন্ডার বিক্রি করা হতো এবং প্রাপ্ত অর্থ ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হতো।
সেই আয়োজনে বার্সেলোনা দলের ১২ জন ফুটবলারের সঙ্গে ১২ জন শিশুকে জুটি করা হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে মেসির সঙ্গে যে শিশুটিকে রাখা হয়েছিল, সে ছিল বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরের বাসিন্দা লামিনে ইয়ামাল।
ছবিটির আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত পরে সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘খুব কঠিন একটি ছবি ছিল। বলতে পারেন, ছবিটি তুলতে আমি ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিলাম।’
তিনি আরও জানান, তখনও মেসি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে ওঠেননি। রোনালদিনহো, স্যামুয়েল ইতো, জাভি ও ইনিয়েস্তাদের ভিড়ে তিনি ছিলেন উদীয়মান এক প্রতিভা। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে মনফোর্ত বলেন, ‘মেসির বয়স তখন ২০ বছর হবে। খুব লাজুক ছিল। হঠাৎ করেই তাকে লকাররুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখে, একটি পানিভর্তি বাথটাব। এর মধ্যে একটি শিশু। ও থতমত খেয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাটাকে কী করে ধরবে, প্রথমে সে বুঝতেই পারছিল না। অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ একটি ছবি পাই।’
সে সময় সংবাদ সংস্থা এপির হয়ে কাজ করা মনফোর্ত জানান, এই ছবিটি সফলভাবে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামালের মা শেইলা এবানা। তার সহযোগিতাতেই ফটোশুটটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল।
তখন ইয়ামালের পরিবার মাতারো শহরে বসবাস করত। সেখান থেকে ছোট্ট শিশুকে নিয়ে ন্যু ক্যাম্পে পৌঁছানো এবং ফটোশুটে অংশ নেওয়া সহজ ছিল না। পুরো বিষয়টি সামলেছিলেন ইয়ামালের মা।
এর সাত বছর পর, ২০১৪ সালে, ইয়ামালের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয় ন্যু ক্যাম্পে। সে বছরই তিনি বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় অভিষেক হয় তার। একই বছরের সেপ্টেম্বরে স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতেও অভিষেক ঘটে ইয়ামালের। ২০২৪ সালে ইউরো জয়ী স্পেন দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও দেখছে স্পেন, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে শেষ বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেই লিওনেল মেসিই, যিনি একসময় তাকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন।