
মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নতুন করে সামনে এনে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই দাবি পূর্ববর্তী মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দেওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকাশিত নথিতে মার্কিন নির্বাচনে চীনের তৎপরতার প্রমাণ রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ভোটার নিবন্ধনের কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য তথ্যও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিসর সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ২০২১ সালে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের সঙ্গে মিলছে না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফলাফল প্রযুক্তিগতভাবে পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা কিংবা তাতে সফল হওয়ার প্রমাণ কোনো বিদেশি পক্ষের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। সেই মূল্যায়নটি ট্রাম্প প্রশাসনের তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এবং বর্তমান সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল।
তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ২০০৮ সাল থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার, জনমত, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্ভাব্য নির্বাচনি ফলাফল মূল্যায়ন করাই ছিল সেই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, চীনের কাছে পৌঁছানো মার্কিন ভোটারদের তথ্য গোপনীয় ছিল না। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত এ ধরনের ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে থাকে এবং এসব তথ্য পরিবর্তনেরও সুযোগ নেই।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন এই চীনবিরোধী অবস্থান ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। গত বছরের ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। রয়টার্সের তথ্যমতে, ট্রাম্পের ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, চীন-সংক্রান্ত এসব তথ্য প্রকাশ বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের আগেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, চীন কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স।