
ফুটবল ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক এবার বিক্রি হলো রেকর্ড দামে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের পরা জার্সিটি নিলামে ৪৯ লাখ মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিস জানিয়েছে, পেলের কোনো স্মারকসামগ্রী এত উচ্চমূল্যে আগে কখনো বিক্রি হয়নি।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই নিলামে জার্সিটি কিনতে মোট ১০টি বিড জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪৯ লাখ ডলারের সর্বোচ্চ প্রস্তাবে এটি বিক্রি হয়। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্যবহৃত হওয়ায় জার্সিটির মূল্য এতটা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পেলের পুরো নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে দুটি গোল করেছিলেন। এখনো বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড তার দখলেই রয়েছে।
২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করা পেলে পরবর্তী সময়ে শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এক বিবৃতিতে সোথেবিস জানায়, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ছবিগুলো ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুনর্মুদ্রিত ও ব্যবহৃত আলোকচিত্রগুলোর অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী ছিল এই জার্সি।
সোথেবিসের তথ্য অনুযায়ী, একই জার্সি ২০০৪ সালে নিলামে ৭০ হাজার ৫০৫ পাউন্ডে, যা সে সময় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারের সমান ছিল, বিক্রি হয়েছিল।
তবে পেলের এই জার্সি তার ব্যক্তিগত স্মারকের মধ্যে সবচেয়ে দামি হলেও, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া স্মারকের রেকর্ড এটি নয়।
সেই রেকর্ড এখনো রয়েছে কিংবদন্তি বেসবল তারকা বেব রুথের ১৯৩২ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজে পরা ‘কলড শট’ জার্সির দখলে। ২০২৪ সালে সেটি ২ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৫৭ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এ ছাড়া ১৯৯৮ সালের এনবিএ ফাইনালে ব্যবহৃত মাইকেল জর্ডানের জার্সি ১ কোটি ১ লাখ মার্কিন ডলারে (প্রায় ১২১ কোটি ২০ লাখ টাকা) এবং ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরা দিয়েগো ম্যারাডোনার জার্সি ৯২ লাখ মার্কিন ডলারে (প্রায় ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা) বিক্রি হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিলাম প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস।