
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি মানবিক একটি ইস্যুকেও সামনে আনলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, তার দল শুধু মিশর নয়, আরব বিশ্ব ও আফ্রিকারও প্রতিনিধিত্ব করছে।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় আটলান্টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষ এবং লিওনেল মেসির প্রতি সম্মান জানিয়ে হোসাম হাসান বলেন, ‘আমরা জানি, আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের (মেসি) দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’
গত শুক্রবার ডালাসে শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন মিশরের এই কোচ। আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে এক সাংবাদিক জানতে চান, জয় পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন কি না। উত্তরে হাসান বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও যদি কোনো মানুষ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তিনি তার মানবিকতার একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা করেছি, তা ছিল সম্পূর্ণ মানবিক প্রতিক্রিয়া। আরব, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনো পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সফট পাওয়ারগুলোর একটি ফুটবল। এর মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই– অনুগ্রহ করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদ ও সাংবাদিকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারাও এই বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করুন।’
মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ টেনে মিশর কোচ বলেন, ‘মানবাধিকার, প্রাণীর অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিয়ে যখন কথা বলা হয়, তখন ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষদের নিয়েও আমাদের কথা বলা উচিত।’
ফিলিস্তিনের প্রতি এই অবস্থানকে দলের অনুপ্রেরণার অংশ হিসেবেও দেখছেন তিনি। এ বিষয়ে হাসান বলেন, ‘আমাদের ওপর মিসর, আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্বই আমাদের নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকতে এবং মাঠে আমরা কী করতে পারি, সেদিকেই মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।’
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পর হোসাম হাসানের প্রকাশ্য ফিলিস্তিন-সমর্থনের ঘটনায় ইসরায়েলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম মিশরের কোচ ও দলকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সার তাদের অনুসারীদের আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।