বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের খরচের চাপ নতুন মাত্রা পায়, যেখানে এক শহরে ট্রেনে যাতায়াতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ ডলার, আবার অন্য শহরে মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আয়োজকদের বিভিন্ন ঘোষণায় স্পষ্ট হয়, একই টুর্নামেন্টে শহরভেদে পরিবহন ব্যবস্থায় এই তীব্র বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
নিউ জার্সির আয়োজকেরা নিশ্চিত করে, সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াত করা দর্শকদের ট্রেনে আসা-যাওয়ার জন্য মোট ১৫০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হবে। এমন ব্যয় যেন এমনিতেই টিকিটের উচ্চমূল্যের আগুনটাকে আরেকটু যেন উস্কে দেয়।
ঠিক সেই সময়েই অপর এক শহর ফিলাডেলফিয়া ভিন্ন চিত্র হাজির করে, যেখানে ম্যাচ শেষে দর্শকদের জন্য ট্রেনে ফেরার পুরো ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে বিনামূল্যে।
স্থানীয় আয়োজক কমিটি জানায়, বিশ্বকাপের স্পন্সরের সহায়তায় তারা এই উদ্যোগ নিতে পেরেছে। ম্যাচের বিরতি থেকে শুরু করে শেষ বাঁশি বাজার পরবর্তী দুই ঘণ্টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ট্রেন নেটওয়ার্কে ভাড়া লাগবে না।
স্টেডিয়ামসংলগ্ন স্টেশন থেকে শুরু করে এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। তবে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে সাধারণ ভাড়ায় যাত্রা করতে হবে, যা প্রায় তিন ডলারের কাছাকাছি।
ফিলাডেলফিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির বাতাস হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। এই শহরে গ্রুপ পর্বে একাধিক বড় ম্যাচের পাশাপাশি শেষ ষোলোর খেলাও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, ফলে বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামলাতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেনসিলভানিয়ার গভর্নর একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভক্তরা যেন নিরাপদে ও সাশ্রয়ীভাবে ঘরে ফিরতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
অন্যদিকে কানসাস সিটি ও ডালাসও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবহন পরিকল্পনা ঘোষণা করে। কানসাস সিটিতে বিমানবন্দর থেকে শহরের ফ্যান জোন পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস চালু রাখা হচ্ছে, আর নির্দিষ্ট পরিষেবায় অল্প খরচে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের সুযোগ থাকছে।
ডালাসে আবার উপশহর থেকে নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত যাওয়া-আসায় খরচ ধরা হয়েছে মাত্র কয়েক ডলার, বাকি পথ পাড়ি দিতে মিলছে বিনামূল্যে বাস সুবিধা।
একই বিশ্বকাপ, অথচ শহরভেদে খরচের এই বৈপরীত্য যেন এক মুদ্রার দুই পিঠ। কোথাও দর্শকদের জন্য খোলা দরজা, কোথাও আবার সেই দরজায় টানানো ভারী মূল্য ট্যাগ।