
দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার—এমন হতাশার রাতই দেখল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। স্বাগতিক থাইল্যান্ড-এর বিপক্ষে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গোলরক্ষক মিলি আক্তার বক্সের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার তাকে উঠানোর চেষ্টা করলেও হতাশা গ্রাস করেছিল পুরো দলকে।
দারুণ শুরু, স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশ
ম্যাচের শুরু থেকেই সমানে সমান লড়াই করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। তখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ শিবির।
১৫ মিনিটে সব শেষ
৬৯ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা ম্যাচে হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। সেই দুই পেনাল্টি থেকেই গোল করে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে আরেকটি গোল আদায় করে তারা। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি
৮০ মিনিটে পিছিয়ে যাওয়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে সম্ভাবনাময় শুরু সত্ত্বেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কোচ পিটার বাটলার-এর শিষ্যদের।
শক্ত প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড
নারী ফুটবলে থাইল্যান্ড একটি শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। তবে এই ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে লড়াই করে সম্ভাবনার জানান দিয়েছে বাংলাদেশের তরুণীরা।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
৩১ মিনিটে সাগরিকার দুর্দান্ত গোলটি ছিল ম্যাচের সেরা মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া থ্রু পাস ধরে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি, যা গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।