
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বড় সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আগামী মাসে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে এই অবস্থান নিয়ে আইসিসির সঙ্গে বিসিবির টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক অথবা বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে ‘বি’ গ্রুপে স্থানান্তর করা হোক। কিন্তু আইসিসি এই দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দেয়। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হলেও এবং আইসিসি ও বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
এই অচলাবস্থা কাটাতে গতকাল আইসিসি একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে। সেখানে আইসিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান জয় শাহ, সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা, ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং জিএম গৌরব সাক্সেনা। এছাড়া ঢাকায় বৈঠক সেরে যাওয়া আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভও বৈঠকে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোর্ড পরিচালকরা সভায় যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিত্ সাইকিয়া, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভিসসহ অন্যান্য বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা।
এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র সমর্থন দেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে বিসিবির পাশে থাকার নির্দেশ দেয় এবং সেই অনুযায়ী অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে খেলবে কি না, সে বিষয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের মতামত নেওয়া হয় এবং ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে খেলবে না এমন প্রস্তাবে কেবল পিসিবি বিসিবির পক্ষে ভোট দেয়, বাকি সব বোর্ড বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলতে সমর্থন জানায়।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ভারতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, সাংবাদিক এবং দর্শকদের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি তারা দেখছে না। একই সঙ্গে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আইসিসির অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। যদি বিসিবি দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য একটি দেশ খেলবে। র্যাংকিং বিবেচনায় সেই দেশ হতে পারে আয়ারল্যান্ড।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ছাড়াই আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আইসিসি বিসিবিকে আরও এক দিন সময় দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা নয়, ভারতেই বিশ্বকাপ খেলবে কি না, সে বিষয়ে আজকের মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে।