
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেখানে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা।
মঙ্গলবারের (২৮ জুলাই) হামলার ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদরে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন এবং বিকেলে হবিগঞ্জে আসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগের দিনের হামলার প্রতিবাদে এনসিপি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে দলটি। এর পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হামলার ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা এবং এখানকার মানুষের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সমালোচনারও একটি শালীনতা থাকা উচিত। তার অভিযোগ, এনসিপির নেতারা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জের মানুষ অতিথিপরায়ণ, তবে বেয়াদবি সহ্য করে না।’
তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জের মানুষ প্রতিবাদী। তাই স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। এনসিপির নেতাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি শালীন রাজনৈতিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হল চত্বরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে সবুজবাগ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে দাবি করে দলটি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর রাতেই এনসিপি এবং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবার পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।