
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, ‘জামায়াতের কাছেই দেশ নিরাপদ।’ একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সিটি করপোরেশনের অনেক সেবা কাগজে-কলমে থাকলেও সাধারণ মানুষ তা যথাযথভাবে পায় না। এ ক্ষেত্রে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘কার্যকর পরিকল্পনা, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকার মানুষ প্রতিনিয়ত এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই জীবনযাপন করছে।’
তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা এখনও সবার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে জামায়াতে ইসলামী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে ভাটারা, উত্তরা ও মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে চার থেকে পাঁচ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা এবং বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯০ জনের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব না হওয়া পর্যন্ত সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে নগর পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি, ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি সেবামুখী নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি প্রতিরোধেও কাজ করা হবে।’