
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৪০ জনের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতের স্বজনরা সংবাদ সম্মেলন করে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী মারজিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সন্তানরা এবং নিহতের পিতা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লিখিত বক্তব্যে মারজিয়া বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাঁর স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করেন। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের আগাম জামিন দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। একজন নাগরিক হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার চান বলেও জানান।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও কার ইশারায় হত্যার আসামিরা জামিন পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মারজিয়া বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এটিকে অন্যায়ের সঙ্গে আপস হিসেবে দেখা হবে।’ তিনি আরও জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, নিহতের পিতা আব্দুল আজিজসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।