
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কয়েকটি নির্বাহী আদেশ দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তফা। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচনই জনআস্থার সংকট এড়াতে পারেনি।
সাবির মুস্তফা স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি নির্বাচনে এক বা একাধিক প্রধান রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি কিংবা নির্বাচন বর্জন করেছে। তার মতে, এবারের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বড় দলকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যত নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করলে তাদের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান উপস্থিতিও খুব সীমিত।
সাবির মুস্তফার মতে, দেশ আবার এমন একটি নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফল নিয়ে জনসন্তুষ্টি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়, আর আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ রাজনীতি থেকে সহজে মুছে যায় না।
তিনি বলেন, “কয়েকটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী দলকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যায় না।”
সাবির মুস্তফা আরও মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ শাসনামলে যেভাবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও কঠোর রাষ্ট্রীয় কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারও মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই একই ধরনের পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে। তার আশঙ্কা, নির্বাচনের পর বিএনপি, জামায়াত বা কোনো জোট সরকার ক্ষমতায় এলেও যদি একই রকম কঠোর ও এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় থাকে, তাহলে জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।