
রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা এটিএম আজম খানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কোরবানি প্রসঙ্গে দেওয়া ওই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্থানীয় এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির প্রসঙ্গ টেনে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন এটিএম আজম খান। সেখানে তিনি নিজের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে বড় কোরবানি হিসেবে তুলনা করেন। বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জামায়াতের এই নেতা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমার একটি উক্তি নিয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উক্ত সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আমি দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করার সময় একটি অনভিপ্রেত ও অসতর্ক শব্দচয়ন ব্যবহার করেছি, যেখানে কোরবানি সম্পর্কিত একটি তুলনা উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি আমার ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে, যা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির ঘটনা ইসলামের এক অতুলনীয় আদর্শ ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে তুলনামূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয় এবং তা আমার বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থি। উক্ত বক্তব্যের কারণে আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং যদি কোনো ভাই-বোন বা শুভানুধ্যায়ী কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের সবার কাছেও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই বক্তব্য দেন এটিএম আজম খান। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে নিজে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এটিএম আজম খান।