
ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ নাজিরুল ইসলাম নাজির উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত, পাশাপাশি তিনি সহ-যুব সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নাজিরুল ইসলাম নাজিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। ঘটনার সময় তার অপেশাদার ও অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
নাজিরুল ইসলাম নাজির শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোস্তাফিজুর রহমান ভোলার ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজির এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থি। অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর জেলা বিএনপির নির্দেশনায় শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নাজিরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও দলীয় হাইকমান্ড বিশৃঙ্খলা ও জনবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় শেষ পর্যন্ত তাকে পদ হারাতে হয়। সিদ্ধান্তটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলেও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি অংশ এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মামুন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি বজায় রাখার স্বার্থেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নীতি অমান্য করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থানে থাকবে।”