
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- এমন মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পোশাকশিল্পের বিকাশে বিএনপি সব সময় আন্তরিক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ কারণে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে।
এদিকে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা দরকার। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা ফটোসাংবাদিকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে। বিষয়টি কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের কাজের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মতবিনিময় সভায় বিপিজেএ নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিজেএর জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আইনটি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চলছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায় না।
তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরকার এমন একটি আইন করতে চায়, যা প্রকৃত অর্থেই সবাইকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফটোসাংবাদিকদের অবদানের স্বীকৃতির দাবি
সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সংগঠনটির অনেক সদস্য প্রতিকূল পরিবেশ, নির্যাতন ও নানা পেশাগত বাধার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর ছবি ধারণ করেছেন।
ফটোসাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে এ কে এম মহসিন বলেন, এটি শুধু একটি পেশা নয়; দেশের ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণেরও অন্যতম মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের সাক্ষ্য বহন করে ফটোসাংবাদিকদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে তাঁরা দেশে ও বিদেশে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিপিজেএ সভাপতি আরও বলেন, সংগঠনের জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয়ের ব্যবস্থা করা গেলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, গত দেড় দশকে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখেও তাঁরা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাঁদের তোলা ছবির মাধ্যমে দেশের মানুষ ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্দোলনগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার ও দেলোয়ার হোসেন বাদল। এ সময় বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।