
গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি নবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সরকার।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী, চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি নবায়ন হবে। ভারতও এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। পানিসম্পদমন্ত্রী ও সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিও রয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।’
আসন্ন আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পথ সুগম হবে।
বর্তমান চুক্তি সরাসরি নবায়ন করা হবে, নাকি সংশোধিত শর্তে নতুন চুক্তি করা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গঠিত কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি এবং বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রয়োজনকে ভিত্তি করেই আলোচনা এগিয়ে নেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় এবং পানিসংকট সমাধানে সহায়ক হয়—এমনভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।