
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ১৭ বছরের মাথায় ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ইতিহাসের সেরা অবস্থানে পৌঁছেছে আফগানিস্তান। আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায় শ্রীলংকাকে পেছনে ফেলে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে রশিদ খানের দল। ধারাবাহিক সাফল্যে এখন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তিগুলোর জন্যও কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে আফগানরা।
২০০৯ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করে আফগানিস্তান। এরপর ধীরে ধীরে নিজেদের সামর্থ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা তুলে ধরে দলটি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে নজর কাড়ে তারা। পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আফগানিস্তান।
ওয়ানডে সংস্করণেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দলটি। এখন পর্যন্ত ১৯১ ম্যাচে ৯৬টি জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.০৯। সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলংকাকে ছাড়িয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে তারা। এর আগে থেকেই বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপরে অবস্থান করছিল আফগানিস্তান।
সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দলটি। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এরপর জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও অপরাজিত ছিল আফগানিস্তান।
সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে দলটি। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে আফগানরা। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
ওয়ানডে অভিষেকের মাত্র ১৭ বছরের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে উঠে আসা আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। ফলে তাদের আর শুধু অপ্রত্যাশিত চমক দেখানো দল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান। তালিকায় অষ্টম স্থানে ইংল্যান্ড, নবম স্থানে বাংলাদেশ এবং সপ্তম স্থানে শ্রীলংকা রয়েছে।