-6acf56be638aa.webp)
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুস্থ, সক্ষম ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, পুষ্টি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাকে নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে নীতিগত আলোচনা দ্রুত বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করে সেরাক-বাংলাদেশ।
সামাজিক সংকটে কিশোর-কিশোরীরা
কৈশোরের শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কৌতূহলকে স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, সামাজিক কুসংস্কার, সংকোচ ও লোকলজ্জার কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে সাহায্য চাইবে, তা বুঝতে পারে না। অন্যদিকে মানসিক আঘাত ও পরিবারের ভেতরে মানসিক নির্যাতন তাদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা গোপন রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করার কারণে সন্তানদের ‘বেয়াদব’ বা ‘ইচড়েপাকা’ বলে থামিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং নির্ভয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব উদ্যোগ ও কর্মসূচিতে পরিবারকে কেন্দ্রীয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে।
১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান
কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বড় পরিসরে জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় সব এলাকার জন্য একই ধরনের কর্মসূচি কার্যকর হবে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যেসব এলাকায় এসব সমস্যার প্রকোপ বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ
কিশোর-কিশোরীদের তথ্য অনুসন্ধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চ্যাটজিপিটির ব্যবহার প্রসঙ্গে ড. এম এ মুহিত বলেন, যথাযথ পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস সহজে না পাওয়ায় তরুণদের অনেকে এসব প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তরুণদের জন্য মানসিক-সামাজিক পরামর্শ এবং বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যতথ্য সহজলভ্য করতে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন।
অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী এবং কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।