
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তাঁর ভাষণ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, সাধারণ পরিষদের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। শিশু, নারী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের পরিকল্পনাও তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে বলে জানান মাহদী আমিন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনার একটি রূপরেখাও ভাষণে তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র সুসংহত করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান তাঁর উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ২০ মিনিটের বেশি সময়ের বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন।
জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী একাধিক বহুপক্ষীয়, দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন বলেও জানান মাহদী আমিন। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে বলে জানান তিনি।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চারটি প্রস্তাবও দিয়েছেন বলে জানান মাহদী আমিন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন বলে জানান তাঁর উপদেষ্টা। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি সেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুতেরেস। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে জানান মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।