.jpg)
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিনটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এদিন মুসলমানদের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও নেক আমলের সুযোগ। জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মসজিদে আগে যাওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটি কাটানো যায়।
জুমার গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে। এদিন মসজিদে যাওয়ার আগে নিজেকে পরিপাটি রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
জুমার নামাজের জন্য সম্ভব হলে আগে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। মসজিদে গিয়ে নামাজের অপেক্ষায় থাকা, নফল ইবাদত ও জিকিরে সময় কাটানোও সওয়াবের কাজ।
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ। ইমামের খুতবা চলার সময় মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। মোবাইল ফোন ব্যবহার বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না থেকে খুতবার প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ
শুক্রবার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার আমলও করা যায়। এদিন অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি দরুদ, ইস্তিগফার ও জিকিরে সময় দেওয়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সুযোগ তৈরি করে।
সূরা কাহফ তিলাওয়াত
শুক্রবার সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়লে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা যেতে পারে বলে আলেমদের একটি মত রয়েছে।
বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়—এমন হাদিস সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। তাই এদিন বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। নিজের, পরিবার, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা যেতে পারে।
ইস্তিগফার ও জিকির
শুক্রবার তওবা, ইস্তিগফার ও বিভিন্ন জিকিরের মাধ্যমে সময় কাটানো যেতে পারে। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’সহ বিভিন্ন জিকির করা এবং কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে দিনটি ইবাদতে কাটানো উত্তম।
সব মিলিয়ে শুক্রবার শুধু জুমার নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইবাদত, দোয়া, দরুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত।