
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত ১৪৭ বিধির নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ বিতর্ক হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বিরোধীদলীয় উপনেতা মন্তব্য করেছেন—আওয়ামী লীগ দল হিসেবে রাজনীতি করতে চাইলে এতে আপত্তির কিছু নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাহের বলেন, তাঁর সাক্ষাৎকারের বক্তব্য আংশিকভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় উপনেতা একটা কথা বলেছেন—আওয়ামী লীগের পলাতক আসামি এবং দুর্বৃত্তরা গ্রামেগঞ্জে মিছিল দিচ্ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিগত নির্বাচনের সময় আমাদের বন্ধুদের অনেকে নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মে স্টেজে সেই দলের নেতারা বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে—এটা আমি বলতে চাচ্ছি না।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি তাদের ওয়াকআউট করাতে চান? মাননীয় মন্ত্রী, বিষয়ের মধ্যে থাকেন। তাদের আর ওয়াকআউট দেখতে চাই না।’
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা একটা সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন, দেখেছি। ভিডিও দেখেছি আর কি। আপনারাও দেখতে পারেন যে, আওয়ামী লীগের লোকজন রাজনীতি করতে চাইলে আপনাদের মন্তব্য কী? আমি কারেক্ট না হলে কারেক্ট করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে একটাই অঙ্গীকার হওয়া উচিত। আমরা এখানেই বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত পোষণ করব। কিন্তু ফ্যাসিজম, আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই উঠবে, তা প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাক্ষাৎকারের পুরো বক্তব্য তুলে ধরেননি।
তাহের বলেন, ‘আমি বলেছি, আওয়ামী লীগ বা যে কোনো দল রাজনীতি করবে, এতে কোনো নীতিগত সমস্যা নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগের লাখ লাখ লোক যে অপরাধ করেছে, তাদের বিচার যথাযথভাবে করার পরে যদি কিছু লোক থাকে, তাহলে সেটা ভিন্ন আলোচনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের অপরাধীদের যদি বিচার হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ নামে আর কোনো দল থাকবে না।’